মো. কামাল উদ্দিন, চকরিয়া :
দীর্ঘ চার বছর চার মাস ২৭ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা আজিজুল হক সুমন। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে তাকে একটি হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন।
চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িপুকুর এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে সুমন ২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পৌর নির্বাচনের রাতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার কামাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে তাকে মামলায় আসামি করা হয় এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়।
সুমন বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তদন্তের সময় আমার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও আমাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। এই সময়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, কিন্তু ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করেছি।”
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, তার বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বাদীপক্ষের কয়েকজন সাক্ষী তার নাম উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে আদালতে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপিত হলে তিনি জামিন লাভ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সুমনের বৃদ্ধ মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে বিনা অপরাধে সাড়ে চার বছর জেল খেটেছে। তাকে ছাড়াতে আমি মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে গিয়েছি, সাহায্য চেয়েছি। অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছি। আল্লাহর কাছে কেঁদেছি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার ফরিয়াদ শুনেছেন।”
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। চিকিৎসা, শিক্ষাব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সামাজিকভাবেও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। তার স্ত্রী-সন্তানও দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে দিন কাটিয়েছেন।
কারামুক্তির পর সুমন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত মামলা প্রত্যাহার, হয়রানির অবসান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানান। তিনি বলেন, “আমি চাই না আর কোনো নির্দোষ মানুষ রাজনৈতিক কারণে এভাবে বছরের পর বছর কারাগারে থাকুক। আমি ন্যায়বিচার চাই, যাতে আমার মতো আর কোনো পরিবার ধ্বংসের মুখে না পড়ে।”
